ছবি: সংগৃহীত
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার মধ্যেই নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় একদল শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু করে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর সরকার মজুরি বোর্ড গঠন এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সেই অনুযায়ী রোববার সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন এবং ৫ নভেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধও শুরু হয়। বিজিএমইএ সভাপতিও আশা প্রকাশ করেছিলেন যে রোববারের মধ্যেই অধিকাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ সম্পন্ন হবে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের খাবারের বিরতির পর কোনাবাড়ীর মন্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজে না ফিরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে অর্ধশতাধিক শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে জরুন এলাকার দিকে গিয়ে আশপাশের কয়েকটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্ডল গ্রুপসহ আশপাশের সাতটি কারখানায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, থানা-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা ৩টার দিকে কয়েকজন শ্রমিক জরুন মোড়ে এসে কারখানায় ঢিল ছোঁড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। ওই সাতটি কারখানা ব্যতীত গাজীপুরের অন্যান্য সব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এসএইচ